দিঘীরপাড় ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। পুলিশ ফাঁড়ির একদম পাশেই সংঘটিত সাম্প্রতিক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা স্থানীয় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ইয়াবা খোর আর ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দিঘীরপাড় ছেয়ে গেছে, আর তাদের নিয়ন্ত্রণে পুরো ইউনিয়নের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গত রাতে ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো—পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র কয়েক কদম দূরে এমন ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পুলিশি টহল দুর্বল। অন্ধকার রাতে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উপস্থিতি চোখে পড়ে না। এমন পরিস্থিতিতে মাদকসেবী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দিঘীরপাড় ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গলি ও বাজার এলাকায় মাদকের প্রভাব বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
একজন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী বলেন,
পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই চুরি হয়, আর চারদিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য—এমন অবস্থায় আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকবো?
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ—ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে তরুণ প্রজন্মও এই মাদকের মারাত্মক প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, কখন কী ঘটে বলা যায় না।
এদিকে প্রশাসন বলছে, চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের কথাও জানানো হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র অভিযান নয়—নিয়মিত টহল, মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কঠোর আইন প্রয়োগই পারে দিঘীরপাড়কে আবারও নিরাপদ করতে।
সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসার বিস্তার দিঘীরপাড়ে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। জনসাধারণের প্রশ্ন একটাই—যেখানে পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই নিরাপত্তা নেই, সেখানে পুরো ইউনিয়নে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

