হোবার্ট হারিকেন্স হোবার্টে অনুষ্ঠিত বিগ ব্যাশ ম্যাচে ব্রিসবেন হিটের কাছে মাত্র ৩ রানে হেরে গেল, যেখানে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ছিলেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মধ্যেও। শেষ বলে ৫ রান প্রয়োজন ছিল, উইকেটে ছিলেন নতুন ব্যাটসম্যান রিশাদ। শেষ বলে মাত্র ১ রান নিতে পেরেছিলেন এই স্পিনার, ফলে হোবার্ট হারিকেন্স ২০ ওভারে ১৫৭ রানে থেমে যায়।
শেষ ওভার ছিল নাটকীয়। ব্রিসবেনের পেসার জামান খানের বিপক্ষে ওভার শুরু হয়। প্রথম দুই বল থেকে নাথান এলিস এক রান তুলে, এরপর নিখিল চৌধুরী দুই ডট বল খেলে তৃতীয় বলে আউট হন। সব চাপ তখন আসে রিশাদের কাঁধে। যদিও রিশাদ ব্যাট হাতে শেষ মুহূর্তের চেষ্টা করেছেন, ৬ রান প্রয়োজনের মধ্যে তিনি মাত্র ১ রান তুলতে পারেন।
তবে ব্যাটিংয়ে হোবার্টের মূল দায়িত্ব ছিল বো ওয়েবস্টার ও বেন ম্যাকডারমটের উপর। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া এই দুই ব্যাটসম্যানের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, শেষ ৬ ওভারে ৩৭ রান তুলতে ব্যর্থ হয় দল। সহজ হিসাব, হাতে ৮ উইকেট এবং প্রতিওভার প্রায় ১ রান প্রয়োজন—তার পরও দল লক্ষ্য পূরণ করতে পারলো না।
অন্যদিকে, বোলিংয়ে রিশাদ হোসেন ছিলেন নিজের ছন্দে। ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন তিনি। প্রথম দুই ওভারে ২১ রান খরচ করা রিশাদ পরের দুই ওভারে ঘুরে দাঁড়ান। শেষ দুই ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে আউট করেন ম্যাট রেনশ ও মারনাস লাবুশেনকে। এই পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩—স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। সমান উইকেট করেছেন অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের লয়েড পোপ।
এই হারের পরও হোবার্ট হারিকেন্স বিগ ব্যাশ পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৩। দল ইতিমধ্যেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। তবে এই হারের ফলে শীর্ষে থাকা নিশ্চিত নয়, এখন অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
রিশাদ হোসেনের বোলিং পারফরম্যান্স ম্যাচের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, যা দেখায় যে নির্দিষ্ট মুহূর্তে ব্যর্থ হলেও তার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা দলকে আগামিতে অনেক সাহায্য করতে পারে।

