ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বুধবার সম্প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়। সরকার এসব বিক্ষোভকে দাঙ্গা হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি কেউ কাউকে পুড়িয়ে দেয়, শিরশ্ছেদ করে কিংবা আগুন ধরিয়ে দেয়—তাহলে আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ মন্তব্য করেন তেহরানের একটি কারাগার পরিদর্শনের সময়, যেখানে বিক্ষোভ-সম্পর্কিত অভিযোগে গ্রেপ্তার শত শত মানুষকে রাখা হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এজেই কারাগারে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করে গ্রেপ্তারকৃতদের মামলার নথি খুঁটিয়ে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি আরও বলেন, এসব মামলার বিচার প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ ঘটনাগুলোর বিবরণ এবং বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে জানতে পারে।
গত কয়েক মাসে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভকে সরকার সামাজিক অস্থিরতা হিসেবে গণ্য করলেও আন্তর্জাতিক মহল একে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কাজনক সংকেত হিসেবে দেখছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা দ্রুত বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক সংস্থা দাবি করেছে, গ্রেপ্তারদের অনেককেই আইনজীবীর অ্যাক্সেস ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারকে না জানিয়ে আদালতে তোলা হচ্ছে। এর ফলে ইরানে ন্যায্য বিচারব্যবস্থার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। তাদের দাবি, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আদালত বিক্ষোভের নামে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধে কাজ করছে এবং আইন অনুযায়ীই বিচার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও ইরানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচারের ঘোষণায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি বিক্ষোভে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবাধিকার সংকটে রূপ নিতে পারে। ইরানে চলমান এই উত্তেজনা ও কঠোর বিচার প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উদ্বেগজনক অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

