
বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে কনে আশ্রয় নিলেন থানায়
বিয়ের আসর ছেড়ে থানায় আশ্রয় কিশোরী কনের, সিরাজদীখানে বাল্যবিবাহ বন্ধ
বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের চাপে অনিচ্ছাকৃত ও বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানার দ্বারস্থ হন এক কিশোরী কনে।
সোমবার (আজ) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিয়ের আয়োজন চলাকালীন সময়েই কনে বাড়ি ছেড়ে নিকটবর্তী সিরাজদীখান থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। কিশোরী ওই কনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায়। তিনি বিক্রমপুরের একটি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে নারায়ণগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে ঠিক করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করেন। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই কনে নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, তিনি বিয়েতে অনিচ্ছুক হয়ে আগেই থানায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কনের মা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেয়ের অসম্মতির কারণে বিয়েটি সম্পন্ন হয়নি এবং বর্তমানে কনে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছে।
সিরাজদীখান থানার এএসআই কামরুল ইসলাম জানান, কনের বক্তব্য অনুযায়ী পরিবারের সিদ্ধান্তে তার মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পরিবারের পছন্দ করা পাত্রকে তিনি পছন্দ করেন না এবং আইন অনুযায়ী তার বিয়ের বয়সও পূর্ণ হয়নি। এসব কারণেই তিনি পুলিশের সহযোগিতা চান।
এ বিষয়ে সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হান্নান বলেন, কনের মতামত উপেক্ষা করে পরিবার জোরপূর্বক বিয়ের আয়োজন করেছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং বাল্যবিবাহ ও অনিচ্ছাকৃত বিয়ে রোধে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আইনি সহায়তা নিতে থানায় আশ্রয় নেওয়া সাহসিকতার পরিচয় এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
