দেশজুড়ে শীতের দাপট চরমে। কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে জনপদ। ভোরের আলো ফুটতেই উত্তরের হিমেল হাওয়া বাড়িয়ে তুলছে শীতের তীব্রতা। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামীকাল বুধবার (৬ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক জানাচ্ছেন, শৈত্যপ্রবাহ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগামীকাল ভোরে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় সূর্যোদয় দেরিতে দেখা যেতে পারে, এবং বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকবে।
গবেষকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। বুধবার সকাল ৬টার দিকে বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।
৬১ জেলায় কুয়াশার চাদর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে—ফেনী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬১টি জেলায় কুয়াশার ঘন উপস্থিতি রয়েছে।
মঙ্গলবার রাত থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট ছাড়া দেশের অন্য ছয় বিভাগের জেলাগুলো মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়বে বলে জানানো হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে থাকবে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা।
আগামীকাল রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জেলায় দুপুর ১২টার আগেও সূর্যের আলো দেখা নাও যেতে পারে।
অন্য পাঁচ বিভাগে সকাল ১০টার পর থেকে দুপুরের মধ্যে সূর্যের দেখা মিলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জানুয়ারি মাস জুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, সোমবার রাত থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত কমছে এবং জানুয়ারিতে ১ থেকে ২টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

