Site icon বিক্রমপুর ইনসাইডার

বোনকে হারানোর বেদনা থেকেই অনুপ্রেরণা: ফেলানীর ভাই আরফান এবার দেশের সীমানা রক্ষায় বিজিবিতে

বাংলাদেশের সীমান্ত ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনার একটি—২০১১ সালে কিশোরী ফেলানীর নির্মম হত্যাকাণ্ড। কুড়িগ্রামের সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা তার নিথর দেহের ছবি আজও জাতীয় স্মৃতিতে তীব্র ক্ষতের মতো রয়ে গেছে। সেই ঘটনার প্রায় দেড় দশক পর নতুন এক বার্তা দিলেন ফেলানীর পরিবার। তার ছোট ভাই আরফান হোসেন এবার বেছে নিয়েছেন সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব। যোগ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নবীন সৈনিক হিসেবে।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ। ওই ব্যাচের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ নেন আরফান হোসেন। শপথের মুহূর্তে আবেগে ভেসে ওঠেন তিনি। জানান, নিজের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—সীমান্তে যেন আর কোনো নিরীহ মানুষের প্রাণ অকারণে ঝরে না যায়।

আরফান বলেন, আমার বোনের মতো আর কাউকে যেন গুলি করে হত্যা করা না হয়—এই প্রত্যাশা নিয়েই আমি বিজিবিতে যোগ দিয়েছি। দেশের মানুষের নিরাপত্তাই এখন আমার দায়িত্ব

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্তে ভারতের বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান ১৫ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন। ভারতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার পর বাবা কাসেমের সঙ্গে দেশে ফেরার পথে সীমান্ত পের হওয়ার সময় তাকে নির্বিচারে গুলি করা হয়। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা তার মৃত্যু মানবাধিকার প্রশ্নে দেশ–বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া চললেও ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার আজও অপেক্ষায়। কিন্তু সময় বদলেছে ফেলানীর পরিবারের সিদ্ধান্ত। শোককে শক্তিতে পরিণত করেছেন তার ছোট ভাই আরফান। দেশের সীমান্তে দায়িত্ব নেওয়া তার কাছে শুধু চাকরি নয়—একটি প্রতিশ্রুতি, একটি ব্যক্তিগত লড়াই।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন ব্যাচের সদস্যদের প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক মানের। এই ব্যাচের অংশ হিসেবে আরফান ভবিষ্যতে যে কোনো সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

স্থানীয় মানুষও আরফানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাদের মতে, যে পরিবার সীমান্তে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি দেখেছে, সেই পরিবারের ছেলেই যখন সীমান্ত রক্ষায় দাঁড়ায়—এটি দেশের জন্য শক্তিশালী বার্তা। ফেলানীর পরিবারও সন্তানের এই সিদ্ধান্তে গর্বিত। তাদের বিশ্বাস, আরফানের মাধ্যমে হয়তো সীমান্তে মানবাধিকারের সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।

Exit mobile version