রাতে ঘুমের সময় অনেক শিশুই নাক ডাকে—এটিকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত নাক ডাকা শিশুদের ক্ষেত্রে বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে। বিশেষত অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি ফুলে গেলে শিশুর শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পাঁচ বছর বয়সে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি ধীরে ধীরে ছোট হতে শুরু করলেও অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় এই গ্রন্থি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করলেও ফুলে গেলে উল্টো শিশুর শ্বাস–প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়।
তিন বছর বয়সী আদিরা রাতে প্রবল নাক ডাকে—এতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে তার বাবা–মা রাজা ও চন্দ্রিমার। প্রথমে তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকা নাক ডাকা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, ঘন ঘন সর্দি–কাশি ও গলা শুকিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, সমস্যার মূলেই রয়েছে বড় হয়ে যাওয়া অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি। বর্তমানে অনেক শিশুই একই সমস্যায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি বড় হলে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
১. নাক ডাকা: অ্যাডিনয়েড সমস্যার প্রধান উপসর্গই হলো নাক ডাকা। পাশাপাশি মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, যাকে ‘অ্যাডিনয়েড ফেসিস’ বলা হয়।
২. অক্সিজেন ঘাটতি: গ্রন্থি অতিরিক্ত বড় হলে শরীরে অক্সিজেন কম পৌঁছায়, ফলে শিশুর সারাদিন ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব থাকে। খাবার খেতেও সমস্যা হয়।
৩. দাঁতের গঠন বদলে যাওয়া: দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে সামনের দাঁত উঁচু হয়ে যায় এবং মাড়ি নরম হয়ে পড়ে। মুখ দিয়ে লালা পড়ার প্রবণতাও দেখা যায়।
৪. কান ব্যথা ও সংক্রমণ: ঘন ঘন সংক্রমণে কানে ব্যথা, ইনফেকশন এবং কখনো তরল নির্গত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
৫. শ্বাসজনিত রোগের ঝুঁকি: অ্যাডিনয়েড বড় হলে ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, নাক-কান-গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা ছাড়া অ্যাডিনয়েড ধরা যায় না। বয়স অনুযায়ী নাকের ড্রপ, স্প্রে বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাক ডাকা সবসময় অ্যাডিনয়েডের সমস্যা নয়:
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন—শিশুর নাক ডাকার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন—
১. অ্যালার্জি: নাক বন্ধ হয়ে গেলে শিশুর নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে।
2. অ্যাজমা: শুরুতে অ্যাজমার উপসর্গ হিসেবে নাক ডাকার ঘটনা দেখা যেতে পারে।
3. অতিরিক্ত ওজন: মোবাইল ব্যবহারে অভ্যাস, বাইরের খাবার খাওয়া ও খেলাধুলো কমে গেলে ঘাড়–গলার আশেপাশে চর্বি জমে, ফলে নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ে।
4. স্লিপ অ্যাপনিয়া: রাতে ঘাম হওয়া, বিছানায় প্রস্রাব করা, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করার সঙ্গে নাক ডাকার উপসর্গ মিললে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
শিশু নিয়মিত নাক ডাকলে তা কখনোই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে শ্বাস বাধা, ঘুমের ব্যাঘাত থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

