মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে কর্মী প্রত্যাহার শুরু করেছে ওয়াশিংটন। অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সতর্কতামূলক এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মাটিতে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হবে। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পরই মার্কিন কর্মী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাদের দাবি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে।
একই দাবি করেছে ইসরাইলও। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন—তবে হামলার সময় বা পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ থেকেও কর্মী সরানো হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে দোহা। যদিও পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, গত বছরের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগের মতো বড় সেনা সমাবেশের তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে মাত্র দুই সপ্তাহে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা ২,৬০০ ছাড়িয়েছে, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বিক্ষোভ দমনকে ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন।
ইরান সরকার অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভির দাবি, বিদেশি শত্রুরা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে—ইরানকে অবশ্যই বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন–পীড়ন বন্ধ করতে হবে।
একদিকে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযান, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এখন তীব্র উত্তেজনার চূড়ায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: সামা টিভি

