ইরান বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের দেশে থাকা ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে পাল্টা আক্রমণ করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হুমকির পর এই ঘোষণাটি এসেছে, যা তেহরানের কড়া অবস্থান প্রকাশ করছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা বলেন, আমরা মনে করি ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করেছেন। যদিও এর সময় ও পরিধি এখনও অজানা। তবে ওয়াশিংটনকে হামলা থেকে বিরত রাখতে আমরা আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।
ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা এখন প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন সরকারি কর্মীর মৃত্যু ঘটেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ অঞ্চলের সব দেশকে অবহিত করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা হবে। উত্তেজনার মধ্যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও স্থগিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সূত্র জানায়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন অথবা মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল।
ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অঙ্গীকার করেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তারা যদি ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে বড় কিছু ঘটবে। তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাইরাইনে পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং কাতারে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি। গত বছর ইরান পারমাণবিক কেন্দ্রের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত।

