Site icon বিক্রমপুর ইনসাইডার

চরমোনাইকে অতিরিক্ত ছাড় দিতে গিয়ে সংকটে জামায়াত! ভাঙনের মুখে ১১ দলীয় জোট

১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ও মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসের অতিরিক্ত আসন দাবির কারণে জামায়াত ইসলামি বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে। সূত্র জানায়, হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে জামায়াত নিজ দলের কোনো প্রার্থী দেয়নি, যা দল দুটিকে জামায়াতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ এনে দিয়েছে।

চরমোনাইয়ের দাবি: ‘আমাদের দেশের বড় ভোট ব্যাংক আছে’

ইসলামী আন্দোলন মনে করে—তারা দেশব্যাপী উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যাংকের মালিক। তাই তারা আরও বেশি সংখ্যক আসন দাবি করেছিল। দফায় দফায় বৈঠকেও তারা অবস্থান থেকে নড়েনি। জামায়াত ৪০টির বেশি আসন উন্মুক্ত রাখতে ইচ্ছুক থাকলেও চরমোনাই কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। ফলে জোটে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও চাপে ফেলেছে জোটকে

মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও নিজেদের অবস্থান থেকে বেশি আসনের দাবি করেছে। তাদের সঙ্গেও জামায়াত এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দল দুটি ১১ দলীয় জোট থেকে সরে গিয়ে আলাদা পথে হাঁটতে পারে।

৩০০ আসনে ৬০০ মনোনয়ন: জোটের ভেতরে বিশৃঙ্খলা স্পষ্ট

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের পর দেখা যায়—৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রার্থীরা প্রায় ৬০০ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সময় সংকটের কারণে এমন হয়েছে; আলোচনা করে আসন সমঝোতা করা হবে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এনসিপিকে ৩০ আসন ছেড়ে দেয় এবং এনসিপি তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণও করেছে।

নতুন তিন দল যোগ দেওয়ার পরই বাড়ে অস্থিরতা

আট ইসলামি দল নিয়ে গঠিত পুরোনো জোটটি বেশ দূর পর্যন্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে এগোলেও, পরবর্তীতে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, অলি আহমদের এলডিপি এবং মনজু–ফুয়াদের এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠন করলে উত্তেজনা শুরু হয়।
নতুন দলগুলোর সঙ্গে জামায়াত ঐক্য করার পর থেকেই ইসলামি দলের গুরুত্ব কমতে থাকে। কম আসন পাওয়ার আশঙ্কায় তারা জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহ হারাতে শুরু করে।

কোন কোন দল রয়েছে এই ১১ দলীয় জোটে?

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে—

সমঝোতা এখনো দূরে, ভাঙনের শঙ্কা বাড়ছে

গতকাল মঙ্গলবার জোটের পক্ষ থেকে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে যৌথ ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

Exit mobile version