Site icon বিক্রমপুর ইনসাইডার

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ফেসবুকে ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ফেসবুকে ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা প্রায় ৩০ জন কিশোর–তরুণকে কানে ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

রোববার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পুরো ঘটনার পটভূমি তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো শাস্তিমূলক আচরণ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনিক অসহযোগিতার ফল।

সর্বমিত্র চাকমা জানান, ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য তারা সেন্ট্রাল ফিল্ডে অনুশীলনে যান। অনুশীলনের সময় সাইকেল তালাবদ্ধ করে রাখলেও অনুশীলন শেষে একটি সাইকেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও সাইকেলটি না পেয়ে তারা শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটি কম বয়সী ছেলে সাইকেলটি নিয়ে মাঠ এলাকা ত্যাগ করছে। ওই ছেলেটির কাঁধে একটি স্পোর্টস প্রাকটিস ব্যাগও ছিল বলে ফুটেজে দেখা যায়।

সর্বমিত্র জানান, সিসিটিভি ফুটেজসহ শাহবাগ থানায় গেলে পুলিশ জানায়, সাইকেল হারানোর ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা যায় না। তবে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।

হারানো সাইকেলের মালিক হিসেবে তিনি মাহফিজুর রহমান আবির (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষ, মুহসিন হল) এবং সঙ্গে থাকা মো. মনির হোসেনের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বিজয় একাত্তর হল) নাম উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। বারবার নিষেধ করার পরও বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে, দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকছে এবং স্টাফদের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের দেয়াল সংস্কারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলে বাজেটের অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে সর্বমিত্র চাকমা প্রশ্ন তোলেন,
“প্রশাসনের অসহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এর চেয়ে আর কী করার আছে?”

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে বাড়াবাড়ি বললেও, কেউ আবার ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকটি সামনে আনার জন্য বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

Exit mobile version