Site icon বিক্রমপুর ইনসাইডার

ভূমিকম্প হলে কী দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী (সা.) — জানুন কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের মাঝে মাঝে পরীক্ষায় ফেলেন। বিশেষ করে ভূমিকম্প ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর কুদরতের এক শক্তিশালী নিদর্শন। ইতিহাসে বহু জাতি আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়েছে—যার অন্যতম ছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প।

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে—দুর্যোগ নেমে এলে মানুষ যেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা করে। কোরআনে সূরা আনআমে আল্লাহ বলেন—পূর্ব জাতিদের ওপর দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও কষ্ট পাঠানো হয়েছিল, যেন তারা বিনীত হয় (আয়াত ৪২)। কিন্তু তারা অবাধ্য হলে তাঁদের কঠোরভাবে পাকড়াও করা হয় (আয়াত ৪৩-৪৪)।

ভূমিকম্পের সময় ইসলামের করণীয়:

ফুকাহায়ে কেরাম জানিয়েছেন—ভূমিকম্প অনুভূত হলে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দান-সদকা করা উত্তম। কারণ হাদিসে এসেছে—দান-সদকা বিপদ-আপদ দূর করে” (বুখারি)।

নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—
যে দুনিয়ার প্রতি দয়া করে, আসমানওয়ালা (আল্লাহ) তার প্রতি দয়া করেন।” (তিরমিজি)

তবে ভূমিকম্পের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া সহীহ হাদিসে নেই। বান্দা তার মন থেকে যেকোনো দোয়া করতে পারে। তবে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলোর একটি হলো—দোয়া ইউনুস। সংকট, বিপদ ও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সেই দোয়াই পড়তেন নবী ইউনুস (আ.)—যা আল্লাহ কবুল করেছিলেন।

দোয়া ইউনুস

আরবি:
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-ঝালিমিন।
অর্থ:
তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র, মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।

দুর্যোগে সমাজ ও নেতৃত্বের করণীয়

ইসলামের দৃষ্টিতে বিপদ নেমে এলে বিশেষ করে নেতৃস্থানীয়দের উচিত—

সূরা তওবা (আয়াত ৭১)-এ বলা হয়েছে—বিশ্বাসীরা একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে।

বিপদের সময় আল্লাহভীতি ও তওবা

কোরআনে আরও বলা হয়েছে—
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উদ্ধার পথ করে দেন।” (সূরা তালাক:২)

ইসলামী চিন্তায় দুর্যোগ শুধুই প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মানুষের কর্মফলের ফলাফলও হতে পারে। তাই বিপদের সময় দোয়া করার পাশাপাশি সর্বদা পাপাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবীজীর (সা.) গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

রাসূলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যতে ভূমিকম্পসহ ভয়াবহ দুর্যোগের লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন—
যখন মানুষ অবৈধ সম্পদ অর্জন করবে, পিতামাতাকে উপেক্ষা করবে, মসজিদে শোরগোল বাড়বে, মদ সেবন ছড়িয়ে পড়বে, খারাপ লোক নেতা হবে—তখন এমন ভূকম্পন হবে যা ভূমিকে তলিয়ে দেবে।
(তিরমিজি, হাদিস নং ১৪৪৭)

আজকের পৃথিবীর দিকে তাকালে এ হাদিসের বাস্তবতা অনেকাংশে মিল পাওয়া যায়।

ভূমিকম্প—মানবজাতির জন্য এক অমোঘ সতর্কবার্তা

বিজ্ঞান উন্নত হলেও ভূমিকম্প প্রতিরোধ বা নির্ভুল পূর্বাভাসের কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই মুসলমানদের জন্য একমাত্র ভরসা—আল্লাহর কাছে দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা।

Exit mobile version